সাভার হাইওয়ে পুলিশের যানবাহন অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ।


admin প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ন /
সাভার হাইওয়ে পুলিশের যানবাহন অভিযানে বৈষম্যের অভিযোগ।

কাজী সজীব :বিশেষ প্রতিনিধি।

 

সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ফিটনেসবিহীন, নিবন্ধনবিহীন ও প্রয়োজনীয় রুট পারমিট ছাড়া যানবাহন সড়ক-মহাসড়কে চলাচলের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। অথচ সাভার হাইওয়ে থানার আওতাধীন এলাকায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যানবাহনভেদে ভিন্ন আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত আটক ও মামলা করা হলেও ফিটনেসবিহীন বাস, লেগুনা, মিনিবাস, পিকআপ, ব্যাকফুডসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে একইভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

 

 

ফলে প্রশ্ন উঠেছে একই আইনের আওতায় চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে এমন পার্থক্য কেন?

 

সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ অনুযায়ী ফিটনেস সনদ ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস সনদ ব্যবহার করে মোটরযান চালানো বা চালানোর অনুমতি দেওয়া যাবে না। একই আইনের ধারা ১৬ অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন সনদ ছাড়া সড়ক বা মহাসড়কে মোটরযান চালানোরও সুযোগ নেই। আর ধারা ২৮ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রুট পারমিট ছাড়া পরিবহণযান পাবলিক প্লেসে ব্যবহার করা যাবে না।

 

আইনে এসব বিধান লঙ্ঘনের জন্য শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। ফিটনেস সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। নিবন্ধনবিহীন মোটরযান চালানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

 

এছাড়া সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ১১২ অনুযায়ী, কোনো মোটরযান নিবন্ধন, ফিটনেস বা রুট পারমিটের বিধান পালন করছে না বলে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে নির্দিষ্ট পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ওই যানবাহন আটক ও সাময়িক হেফাজতে নিতে পারেন।

 

 

এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, অটোরিকশা ও রিকশার বিরুদ্ধে যদি আইন অনুযায়ী মামলা ও আটক অভিযান পরিচালিত হয়, তাহলে একই আইনের আওতায় ফিটনেসবিহীন বাস, লেগুনা, মিনিবাস ও অন্যান্য আইনবহির্ভূত যানবাহনের ক্ষেত্রেও কি সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

 

আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু যানবাহনকে আইনগত ব্যবস্থা থেকে ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে কথিত ‘মাসিক মাসোহারা’ বা আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে বিষয়টি প্রমাণের জন্য মামলা রেকর্ড, আটক তালিকা, জরিমানার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।

 

অভিযোগ সত্য হলে শুধু আইন প্রয়োগে বৈষম্য নয়, সরকারি রাজস্ব আদায়েও ক্ষতির প্রশ্ন উঠবে। কারণ আইন অনুযায়ী অপরাধের ক্ষেত্রে মামলা ও জরিমানা আদায়ের সুযোগ থাকলে নিয়মিত আইন প্রয়োগ না করার কারণে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

তাই গত এক বছরে সাভার হাইওয়ে থানায় কোন শ্রেণির যানবাহনের বিরুদ্ধে কতটি মামলা হয়েছে, কতটি যানবাহন আটক করা হয়েছে, কত টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে এবং কোন কোন যানবাহন মামলা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এসব তথ্য প্রকাশ ও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

একই সঙ্গে কথিত মাসিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে তাদের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম যাচাইয়ের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে তার প্রয়োগেও সমতা থাকা জরুরি। সাভার হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য না মিথ্যা তা নিরপেক্ষ তদন্ত ও সরকারি নথি যাচাইয়ের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়া উচিত বলে মনে করছেন সচেতন মহল