
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলাম সবুজকে মুঠোফোনে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক উপজেলা বিএনপির সদস্য বাদশাহ জাহাঙ্গীর চপলের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বাদশাহ জাহাঙ্গীর চপলের ভাই উজ্জ্বল ও ভাতিজা অননের অবৈধ বোমা মেশিন চালানোর অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে মেশিন ধ্বংস করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সবুজকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার জন্য দায়ী করে বাদশাহ জাহাঙ্গীর চপল ফোনে তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মো. সাইফুল ইসলাম সবুজ দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক ডেসটিনি ও দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার পাটগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি এবং পাটগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।
সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, “ফোনে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বাদশাহ জাহাঙ্গীর চপলের ভাই উজ্জ্বল ও ভাতিজা অনন দীর্ঘদিন ধরে রাতে নদীতে অবৈধভাবে বোমা মেশিন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খবর পেয়ে তাদের মেশিন ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু তারা মনে করছেন, আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়েছি। এ কারণে আমাকে মেরে ফেলার হুমকিসহ ফোনে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা ক্ষতির শিকার না হই, সে বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাদশাহ জাহাঙ্গীর চপলের বিরুদ্ধে এর আগে পাটগ্রাম থানা ভাঙচুরের মামলায় আসামি থাকার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচিত। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার নথি ও বর্তমান আইনি অবস্থান যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বাদশাহ জাহাঙ্গীর চপলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিককে ফোনে হুমকির অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে পাটগ্রামের সাংবাদিক সমাজ।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাঈদ হাসান, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
আপনার মতামত লিখুন :