আশুলিয়ায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১


admin প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ন /
আশুলিয়ায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১

কাজী সজীব, বিশেষ প্রতিনিধি।

 

ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর ও সম্পূর্ণ ক্লুলেস ‘ট্রিপল মার্ডার’ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকীয়াসংক্রান্ত জটিল পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী, স্ত্রী ও তাঁদের শিশু সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মূল ঘাতককে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

এসআই আনিসুর রহমান বাপ্পী জানান, সম্পূর্ণ ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মূল আসামিকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পরপরই আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তের কৌশলগত স্বার্থে আসামির নাম-পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। তদন্ত কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য ও হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”

 

নিহতরা হলেন—দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার বড়পুকুরিয়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে নাজমা খাতুন (৩৯), তাঁর স্বামী আলমগীর কবির (৪৫) এবং তাঁদের শিশু সন্তান। নাজমা খাতুন আশুলিয়ার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্বামী আলমগীর কবির এলাকায় পান-সিগারেট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

 

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কারখানার ছুটির পর নাজমা খাতুন ও তাঁর স্বামী বাসায় ফেরেন। পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পরকীয়াসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে আলমগীর কবির অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাঁদের বাসায় ডেকে আনেন।

 

পরে সেখানে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আলমগীর কবির, তাঁর স্ত্রী নাজমা খাতুন ও তাঁদের শিশু সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন বলে তদন্তে জানা যায়। হত্যার পর বাইরে থেকে ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

 

এর কয়েক দিন পর, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আশুলিয়ার জামগড়ার রূপায়ন মাঠসংলগ্ন হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন।

 

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজার তালা ভেঙে ওই কক্ষ থেকে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

 

হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় নিহত নাজমা খাতুনের বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

মামলার পর পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তিগত তথ্য, বিভিন্ন আলামত ও তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ ও মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আলোচিত ও রোমহর্ষক এই ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন এবং মূল অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।