
স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ নবীউল ইসলাম
সাভার উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মীর আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি মহলের পক্ষ থেকে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা এবং স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসা এই কর্মকর্তার সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
আসলে কী ঘটছে পাথালিয়া ও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে? অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক ভিন্ন চিত্র।
সততা ও সমাজসেবাই যাঁর মূল পরিচয়
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মীর আব্দুল বারেক একজন অত্যন্ত জনবান্ধব, সৎ ও বিনয়ী কর্মকর্তা। ১৪তম গ্রেডের একজন সাধারণ কর্মচারী হিসেবে সরকারি বিধিমালা মেনেই তিনি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মক্ষেত্রের বাইরে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত। নিজ এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর রয়েছে প্রত্যক্ষ অবদান।
কোনো অবৈধ সম্পদের পাহাড় নয়, বরং পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি এবং বৈধ আয়ের ওপর ভিত্তি করেই তাঁর জীবনযাত্রা। শতকোটি টাকার যে অবাস্তব গল্প ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা দালিলিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
‘বাপসা’র সাংগঠনিক সাফল্য ও ইর্ষান্বিত মহলের ষড়যন্ত্র
মীর আব্দুল বারেক শুধু একজন সরকারি কর্মচারীই নন, তিনি ইউপি সচিবদের মর্যাদাপূর্ণ সংগঠন ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সেক্রেটারি সমিতি’ (বাপসা)-এর ঢাকা জেলার সভাপতি। এই পদে আসার পর থেকে তিনি ইউপি সচিবদের অধিকার আদায় এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছেন।
“মীর আব্দুল বারেক ভাইয়ের সততা ও সাংগঠনিক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পেছনে লেগে আছে। তাঁর সুনাম নষ্ট করতে না পেরে এখন কাল্পনিক দুর্নীতির গল্প সাজিয়ে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।”
— বাপসা-এর একজন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা
রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা
প্রতিবেদনে তাঁকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দুর্নীতি করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বাস্তবতাবিবর্জিত। একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তিনি সর্বদা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে গেছেন। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতার প্রভাব খাটিয়ে বদলি বাণিজ্য বা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। সরকারি নিয়ম মেনেই তাঁর বদলি ও পদায়ন হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁকে অযথা ‘স্বৈরাচারের দোসর’ সাজিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে সেই স্বার্থান্বেষী মহলটি।
মীর আব্দুল বারেকের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মীর আব্দুল বারেক তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন:
“আমার বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং মানহানিকর। আমি দীর্ঘকাল ধরে সততার সাথে চাকরি করে আসছি। কল্যাণপুর বা অন্য কোথাও আমার কোনো বিলাসবহুল বাড়ি বা অবৈধ ফ্ল্যাট নেই। জোরপুল এলাকার সম্পত্তিও নিয়মতান্ত্রিক ও বৈধ উপায়ে অর্জিত। মূলত, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আমার সম্পৃক্ততা এবং বাপসা-এর সাংগঠনিক অবস্থানের কারণে একটি কুচক্রী মহল আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে এই ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। আমি যেকোনো ধরনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তকে স্বাগত জানাই, কারণ আমি জানি আমি নির্দোষ।”
এলাকাবাসীর প্রতিবাদ
পাথালিয়া ও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এই মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, মীর আব্দুল বারেকের মতো একজন আন্তরিক ও সৎ কর্মকর্তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অর্থ হলো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সেবামূলক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কাছে এলাকাবাসীর দাবি—এমন কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে যেন কোনো সৎ কর্মকর্তাকে হয়রানি করা না হয়।
আপনার মতামত লিখুন :